আমার পুরো নাম পার্থসারথি চক্রবর্তী। তবে লেখালেখি ও আলোকচর্চার জগতে আমি শুধু ‘পার্থসারথি’ নামটিই ব্যবহার করি। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছোট্ট রাজ্য ত্রিপুরা আমার জন্মভূমি ও কর্মভূমি।
প্রকৃতি আর পাখির ছবি তোলাই আমার সবচেয়ে গভীর ভালোবাসার জায়গা। প্রায় তিন দশক ধরে ক্যামেরার সঙ্গে পথচলা। প্রথমদিকে মূলত ম্যাক্রো ফোটোগ্রাফি এবং নিয়ন্ত্রিত আলোয় পোর্ট্রেট ফোটোগ্রাফির মাধ্যমে কিছু পরিচিতি তৈরি হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাখি ও বন্যপ্রাণের জগৎ আমাকে ক্রমশ আরও বেশি টেনে নিয়েছে। এখন সুযোগ পেলেই ক্যামেরা কাঁধে ঘুরে বেড়াই ত্রিপুরার জলাভূমি, বনভূমি আর প্রান্তরে—পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণের খোঁজে। বহুদিন ধরেই আমার ব্যক্তিগত মূলমন্ত্র—‘ছুটি পেলেই ছুটি।’ যেন কথাটির ভেতরেই লুকিয়ে আছে অচেনাকে জানার আমার আনন্দ।
লেখালেখি আমার আরেকটি প্রিয় জগৎ। শুরুটা কবিতা দিয়ে হলেও, পাঠকদের কাছে আমাকে পৌঁছে দিয়েছে মূলত জীবনের নানা অসঙ্গতিকে উপাদান করে লেখা হাস্যরসাত্মক ছোটগল্প। তবে শুধু ছোটগল্পেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখিনি। লিখেছি পাখি, প্রকৃতি, ভ্রমণ, প্রত্নতত্ত্ব, স্মৃতিকথা এবং জীবনের ছোট ছোট অভিজ্ঞতা নিয়ে। আমার বিশ্বাস, গল্প শুধু বড় ঘটনার নয়; অনেক সময় জীবনের সবচেয়ে সাধারণ মুহূর্তগুলোর মধ্যেও লুকিয়ে থাকে সবচেয়ে বড় গল্প।
এ পর্যন্ত আমার চারটি বই প্রকাশিত হয়েছে। দুটি ছোটগল্পের সংকলন—আনন্দলেখন এবং লাবণ্যময়ীর লাল জুতো ও অন্যান্য গল্প। অন্য দুটি পাখিবিষয়ক গ্রন্থ—মণীশ কুমারের সঙ্গে যৌথভাবে রচিত Birds of Tripura এবং আমার একক গ্রন্থ পার্থসারথির পাখির দেশে (In the Realm of Birds of Parthasarathi)।
আবৃত্তি, ঘোষণা ও উপস্থাপনার সঙ্গেও আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। আকাশবাণী আগরতলা, দূরদর্শন কেন্দ্র আগরতলা এবং বিভিন্ন মঞ্চে কণ্ঠের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানোর সৌভাগ্য হয়েছে বহুবার।
জীবিকার জন্য আমি ভারত সরকারের অধীনে কর্মরত। কিন্তু হৃদয়ের টানে ছবি তুলি, গল্প লিখি, পাখির খোঁজে পথ হাঁটি, আর শব্দের ভেতরে মানুষের হাসি, স্মৃতি, বিস্ময় ও অনুভূতিগুলোকে ধরে রাখার চেষ্টা করি।
শেষ পর্যন্ত, আমার পরিচয় যদি একটিমাত্র বাক্যে বলতে হয়, তবে সম্ভবত সেটাই হবে—আমি শুধু পৃথিবীটাকে একটু সময় নিয়ে দেখার চেষ্টা করি; তারপর সেই দেখার আনন্দটুকু ছবি আর শব্দে সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।
কলকাকলি
বুনো সুর, বুনো স্বর